আপনার জীবনের সময়সীমা প্রায় শেষের দিকে। সারা জীবনে আপনি অনেক কিছু দেখেছেন, শিখেছেন, করেছেন। তাহলে, এখন কি হবে??

আমাদের ‘কি হত যদি’ সিরিজে আপনাকে স্বাগতম এবং আজকের আর্টিকেলে আমরা জেনে নিব যে ‘কি হত যদি আপনি আপনার ব্রেইন আপলোড করতে পারতেন??’

আর্টিকেলটি শুরু করার আগে বলে নিই যে ‘ব্রেইন আপলোড’ বলতে আমি বুঝিয়েছি ব্রেইনের সকল তথ্য কোথাও আপলোড করা। একদম পুরো ব্রেইনকেই কোথাও ঢুকিয়ে রাখা নয়।

হ্যা। আপনার দেহকে ছেড়ে চলে যাওয়াটা অবশ্যই একটি দুঃখের কথা। কিন্তু এমন কিছু করা সম্ভব হলে, আপনার চেতনা শক্তি, আপনার স্মৃতিশক্তি এবং আপনার মন তো থেকেই যেত নাকি?? আর সেই ভার্তুয়াল জগতে এক সময়ের আসল এবং শারীরিক বস্তু এমনিতেই পরিবর্তিত করে দেয়া যাবে। কিন্তু, তাহলে কি সেই ভার্চুয়াল জগতের পরিবর্তিত আপনি কি আসলেও আপনি নিজেই থাকবেন?? সেই ভার্চুয়াল জগতের একমাত্র উদ্দ্যেশ্য কি শুধুই অন্তহীন যৌবনকাল এবং অমরত্ব?? নাকি আপনার চেতনাশক্তির এই ক্লাউডের ভার্চুয়াল জগতে থাকার কোন খারাপ দিকও আছে??

 কি ভূল হতে পারে??

আপনার ব্রেইনকে ডিজিটাইজ করে অর্থাৎ আপনার ব্রেইনকে ক্লাউডে আপলোড করার উপযোগী করে তুলার পরে তা আবার ক্লাউডে আপলোড করার পিছনে থাকা বিজ্ঞান অত্যন্ত বিতর্কিত একটি বিষয়। তাছাড়া, পরিশেষে এই বিষয়টি একদমই অমিমাংসিত একটি ব্যাপার।

কিছু বিশেষজ্ঞ বলেন যে, এইরকম কোন প্রযুক্তি কোনদিনই আবিষ্কার করা সম্ভব হবে না। অন্যদিকে কিছু বিশেষজ্ঞ বলেন যে, আমাদের হাতে এই প্রযুক্তি ২০৫০ সালের মধ্যেই চলে আসবে। এমনকি, ২০৫০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করার মত একটি কারণও আমাদের কাছে চলে এসেছে।  

Nectome’ নামের আমেরিকান একটি স্টার্ট-আপ বলেছে যে ‘VITRIFIXATION’ নামের একটি পদ্ধতির সাহায্যে তারা একটি মস্তিষ্কের উভয় অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক কাঠামো একদম নিঁখুত ভাবে সংরক্ষণ করে তা বাঁচিয়ে রাখতে পারবে।

এটি করার জন্য তারা ব্রেইনের রক্ত প্রবাহ কে সুগন্ধ রাসায়নিক দ্রবণ দিয়ে পরিবর্তন করে দেয় যেটা মূলত আপনার মাংশের তৈরী প্রসেসর কে জমাট বাধা গ্লাসে পরিবর্তিত করে দেয়। আর যদি আপনি এর পরিণতি কি হবে তা ধারণা করতে পারছেন না, তাহলে বলি। এটা এখনকার প্রযুক্তি দিয়ে কিছুতেই সম্ভব নয়। শারীরিকভাবে তো কিছুতেই সম্ভব নয়।

তত্বানুসারে, আপনি ‘বেঁচে’ থাকবেন। কিন্তু তা তখনই হবে যখন ‘Nectome’ এমন একটি উপায় খুঁজে বের করবে যার মাধ্যমে তারা আপনার ব্রেইন ক্লাউডে আপলোড করতে সক্ষম হবে এবং আপনার ব্রেইন কে আবার কার্যকর করে তুলতে পারবে।

চলুন ধরে নেই তারা তা করতে পারে। তাহলে কি হবে??

Brain Uploading Possibility
Brain Uploading Possibility

Benjamin Franklin লিখেছিলেন, “এই পৃথিবীতে মৃত্যু এবং কর ছাড়া কিছুই নিশ্চিত নয়।” কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, অমরত্ব হয়ত পাওয়া সম্ভব। তবে তার জন্য অনেক দাম দিতে হতে পারে। নিজেকে ক্লাউডে আপলোড করার বিষয়টিতে কিছু না দেখা অপ্রত্যাশিত ফলাফল থাকতে পারে। বর্তমান দিনে, ক্লাউড শুধুমাত্র একটি ভার্চুয়াল স্টোরেজ ছাড়া কিছুই না।

আপনি মাসে মাসে একটি কোম্পানি কে টাকা দেন যাতে তারা আপনার পরিবারের সাথে তোলা কিছু উদ্ভট ছবি সংরক্ষণ করে যাতে সেই ছবিগুলোর উদ্ভটতা আপনার কম্পিউটারকে ধীর না করে দেয়।

কিন্তু আমরা আপনার কথা বলছি। আপনার তোলা কিছু ছবির কথা নয়। আমরা আপনার সকল আলদা বৈশিষ্ট, আপনার অসাধারণ সবকিছু যা আপনি এই পৃথিবীকে দিতে পারবেন তার কথা বলছি। এই সবকিছুই কিন্তু একটি সার্ভারে আপলোড করা হচ্ছে যেটি হয়ত সেই সত্ত্বা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে না যে সেই আকাশে থাকে।

এটিই সবচেয়ে সম্ভাব্য একটি বিষয় যে আপনার eজান্নাত হয়ত বিশাল বিশাল টেক কোম্পানি পরিচালনা করবে। আর এদের কাছে আপনার সারা জীবনের সকল তথ্য থাকবে। শুধু আপনারই নয়। সবার সকল তথ্যই থাকবে। আর সেখানে আপনার যে অস্তিত্ব থাকবে তা হবে সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক। অর্থাৎ, আপনি টাকা দিলেই আপনি বেঁচে থাকবেন নাহলে আপনার কোন অস্তিত্বই থাকবে না। আপনি কিছু High Tech সার্ভারে স্টোরেজের জন্য টাকা দিবেন যাতে তারা আপনাকে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে।

আপনার নতুন বাড়ি এবং বলা যায় আপনার নতুন পরিচয় একটি হার্ড ড্রাইভের মত দেখা যাবে। কারণ ক্লাউডের মূল উপাদানই হচ্ছে হার্ড ড্রাইভ। এটি আসলে হার্ড ড্রাইভে ভর্তি বড় বড় গুদামের মধ্যকার একটি সংযুক্ত নেটওয়ার্ক যে গুদামগুলো অনেক যায়গায় ছড়ানো রয়েছে। এর মূল কারণ হল আপনার ডেটা বিভিন্ন যায়গায় একসাথে সেভ করা।

Brain Uploading
Brain Uploading

এতে কোন কারণে একটি গুদামঘর অফলাইন হয়ে গেলেও আপনি সচল থাকতে পারবেন। তো, আপনি যতক্ষণ না এত ধনী হচ্ছেন যে আপনি নিজের জন্য একটি সার্ভার তৈরী করতে পারবেন, ‘Home Office’ বিষয়টি একটি গভীর অর্থ ধারণ করে।

সমস্যা কোথায়??

আপনি যে কোম্পানির কাছে সাবস্ক্রাইব করে আছেন, তারা কি তাদের কাছে থাকা আপনার মন, স্মৃতি এবং প্রতিভা থেকে কিছুই লাভ করতে পারবে না??

কি এমন গ্যারান্টি দিতে পারবে যে আপনাকে কপি করে কোন AI তে পরিবর্তিত করে ফেলা হবে না?? যদি প্রযুক্তি সেই পর্যায়ে পৌছে যেতে পারে যে পর্যায়ে যেখান থেকে মৃত্যুকে ধোকা দেয়া সম্ভব, তাহলে আমরা কেন বয়স অথবা স্বাস্থ্যকে ধোকা দিব না?? জীবনের প্রথমবারের জন্য আপনি সেই দেহ পেতে পারবেন যা আপনি সারা জীবনই চেয়েছেন এবং তা সারা জীবনই থাকবে।

যে ব্যাপারটি আপনাকে কোথাও বন্দ করে রাখা বা ক্লাউডে আপলোড করা থেকে একটু বেশি সম্ভাবনাময় তা হল আপনার ব্রেইনকে একটি বাক্সের মধ্যে রেখে দেয়া।

রাশিয়ান বিলিয়নিয়ার Dmitry Itskov এমন কিছু তৈরী করছেন যার নাম ‘Happiness Box’. এটি মূলত একটি কম্পিউটার যেটি আপনার ব্রেইনে সংবেদন পাঠাতে সক্ষম হবে। ঠিক যেমনটা আপনার দেহ প্রতিনিয়ত করছে। আসলে, ‘Happiness Box’ তৈরী করা হচ্ছে আপনার দেহের বদলে ব্যবহার করতে।

যেহেতু আমরা জানি না যে এইরকম প্রযুক্তি আদৌ আমরা আবিষ্কার করতে পারব কি না বা কখন তা আমরা আবিষ্কার করতে পারব, আমাদের নিজেদেরকে যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করা উচিত সেটি হল কিভাবে আমাদের কাছে থাকা এই মূল্যবান ক্ষুদ্র সময়কে কাজে লাগানো যায় এবং পরকালের জন্য প্রস্তুত থাকা যায়।

আরো পড়ুনঃ

ক) ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার কিভাবে কাজ করে?? কিভাবে সে তার ইউজারকে চিনতে পারে??

খ) Face Unlock কিভাবে কাজ করে?এটি কতটা নিরাপদ?