বিল্ডিং ধ্বংস করা হচ্ছে, হাজার হাজার প্রাণী মৃত্যুবরণ করছে, আর গাছ জন্মাতে পারছে না। এর সবকিছুরই কারণ ‘বৃষ্টি’!! (বলেন কি??)

দাঁড়ান দাঁড়ান, আমি তো ভেবেছিলাম যে আমাদের এগুলো প্রয়োজন ছিল।

আসলে, আমরা কোন সাধারণ বৃষ্টির কথা বলছি না। আমরা এসিড বৃষ্টির কথা বলছি। কিন্তু, সত্যিই কি বড় বড় বিল্ডিং ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণ এই বৃষ্টি?? এই এসিড কিভাবে আমাদের খাদ্য সরবরাহের উপরে প্রভাব ফেলবে?? আর, এই এসিড কি আপনার চামড়া পুড়িয়ে ফেলতে পারবে??

কি হত যদি এর চতুর্ত্থ পর্বে আপনাকে স্বাগতম এবং আজকে আমরা কথা বলব এই বিষয় নিয়ে যে,

কি হত যদি বৃষ্টি হিসেবে এসিড পড়ত??

যদি Carborane এসিডের মত কোন সুপার এসিড বৃষ্টির মত আকাশ থেকে পরত, তাহলে এটি সবকিছুই ধ্বংস করে ফেলত। এটি একটি সম্পূর্ণ বিল্ডিং, সকল গাড়ি এমনকি আপনাকেও ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

আর একটি কথা না বললেই নয়, কার্বোরেন কিন্তু এর পথে থাকা সবকিছুকেই একদম মুহুর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।

কিন্তু, সৌভাগ্যবশত, আজকে আমরা এই বিষয় নিয়ে কোন কথা বলব না। আজকে আমরা এসিড বৃষ্টি নিয়ে কথা বলব যেটি আকাশ থেকে পড়ে। আমরা কিন্তু এসিড নিয়ে কথা বলছি না যেটি আকাশ থেকে পড়ে।

আমরা এসিড বৃষ্টি নিয়ে কথা বলছি। এর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই এমন মনে হলেও এদের মধ্যকার পার্থক্য গভীর।

যদিও, এর ফলাফল কার্বোরেনের মত হবে না, তবে, যে বস্তুগুলোকে এই বৃষ্টি ছুতে পারবে, তাদের জন্যই এর ফলাফল খুবই মারাত্মক হতে চলেছে।

এসিড বৃষ্টিতে উচ্চ পরিমাণে নাইট্রিক ও সালফিউরিক এসিড আছে যেখানে সাধারণ বৃষ্টিতে এই সকল এসিড খুবই কম পরিমাণ থাকে। এটি এর অম্লতার স্তরকে pH 4 এর আশেপাশে নিয়ে যায় যেটি টমেটোর তৈরি জুসের মত অম্লতা বহন করে।

এসিড বৃষ্টি এমনিতের প্রাকৃতিকভাবে হয় না। এটি মানুষের পরিবেশ দূষণের কারণে হয়। রাসায়নিক পদার্থ এবং দূষক যেগুলো খনিজ জ্বালানি পোড়ানোর জন্য সৃষ্টি হয়, সেগুলো আমাদের বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে। সেখানে, তারা পানি এবং অক্সিজেনের সাথে মিশে এসিডিক বৃষ্টি তৈরি করে।

সৌভাগ্যবশত, অল্প পরিমাণের এসিড বৃষ্টির কারণে কোন ক্ষতি হয় না। কারণ, এইরকম কম পরিমাণের এসিড বৃষ্টি কেমন হতে পারে তার উদাহারণ আমরা এর আগেও পেয়েছি। কিন্তু,

কি হত যদি বৃষ্টি সবসময়ই এসিড মিশ্রিত হত??

অর্থাৎ, সাধারণ বৃষ্টির পানিতেও বেশি পরিমাণের এসিড থাকলে তাহলে কি হত?? যদিও, এমন অবস্থা আমাদের জন্য খুব ভাল হত না, তবুও আপনি একটি বিষয় নিয়ে খুশি থাকতে পারবেন যেটি হল এসিড বৃষ্টি আপনাকে সরাসরি কোন ক্ষতি করবে না। এর মানে হল, যদিও এই এসিড বৃষ্টি আপনার চামড়া পুড়িয়ে দিবে না, তবুও এই বৃষ্টি আপনাকে বিভিন্ন দিক থেকে ক্ষতি করতে পারবে।

তবে যে জিনিসটি মূলত এর কারণে ভুগবে সেটি হল আমাদের পরিবেশ।,

এসিড বৃষ্টি গাছপালাকে গুরুতরভাবে শক্তিহীন করে দিতে পারবে এমনকি গাছপালাকে ধ্বংসও করে দিতে পারবে। এই এসিড বৃষ্টি মাটিকে এমনভাবে ধুয়ে নিয়ে যায় যার ফলে মাটির গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোও এর সাথে চলে যায়।

কিছু গাছের পাতার উপরে মোমের মত একটি আস্তরণ পরবে যার ফলে ফটোসিনথেসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছের নিজের জন্য শক্তি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।

পরিবেশ ব্যাতিত আর কি কি ক্ষতিগ্রস্থ হবে??

এই বৃষ্টির কারণে বিল্ডিং, রাস্তা এবং পরিবেশের অন্যান্য উপাদান ক্ষয় হয়ে ধীরে ধীরে ধসে পড়বে। এই এসিড বৃষ্টির জন্য, এই সকল উপাদান এখনকার থেকে আরো দ্রুত ক্ষয় হয়ে যাবে। এসিড বৃষ্টির জন্য সম্পূর্ণ একটি শহর ধীরে ধীরে ভেঙ্গে পড়বে।

যখন এসিড বৃষ্টি পরা শুরু করবে, তখন সেই বৃষ্টির পানি শেষে গিয়ে আমাদের পুকুর, নদী এবং সাগরেই গিয়ে পড়বে। পানিতে মিশ্রিত এই সকল এসিড পানিতে বসবাসকারী সকল প্রজাতির প্রাণীকেই গুরুতরভাবে আঘাত করবে। কিছু কিছু মাছ অবশ্য অন্যান্য মাছদের থেকে আরও ভালভাবে বাস করতে পারবে।

তবে, চিংড়ি এবং ঝিনুকের মত প্রাণী বেশিক্ষণ বাঁচতে পারবে না। আর, পানিতে এসিড থাকা অবস্থায় যদি কোন মাছ জন্ম নেয়, তবে তাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিকলঙ্গ হতে পারে। অর্থাৎ, সেই সকল মাছ পঙ্গু হয়ে জন্মগ্রহণ করার একটি সম্ভাবনা থাকবে।😂😂

আর পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী, যদি এক প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে তা একটি পুরো ইকোসিস্টেমকে বা খাদ্যজালকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

কারণ সেই মাছটি একটি নির্দিষ্ট খাদ্যজালের অংশ ছিল। আর সেটি বিলুপ্ত হয়ে গেলে সেই খাদ্যজালে একটি অভাব দেখা দিবে যা সেই খাদ্যজালকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।

এভাবে, দিনে দিনে সকল মাছ মারা যাবে কারণ তাদের পরিবেশ পরিবর্তিত হতেই থাকবে। আর এই পরিবর্তন এতটাই দ্রুত হবে যে তারা নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার কোন সময়ই পাবে না। পৃথিবীর সকল পানি সমৃদ্ধ জায়গায় কোন প্রাণ থাকত না।

আমার মনে হয় না যে আমাকে এটা বলে দিতে হবে যে এটি আমাদের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার উপরে অনেক বড় একটি প্রভাব ফেলবে। কারণ, মাছ বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ বিলিয়ন মানুষের দৈনিক আহারের একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ। এ জন্য আপনাকে মাছ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারকে বিদায় জানাতে হবে। আর,

এসিড বৃষ্টি কিভাবে আপনার উপরে প্রভাব ফেলবে??

আপনি কি ভেবেছিলেন?? আপনাকে আমি কি হত যদি এর এই পর্ব থেকে অক্ষত বের হতে দিব?? না, এতে আপনার কি হত তা তো জেনে যেতেই হবে।

বায়ুমণ্ডলে থাকা এই বিশাল পরিমাণের সালফার আপনার ফুসফুসে অ্যাজমা এবং ব্রঙ্কাইটিসের মত গুরুতর কিছু রোগ ধরিয়ে দিবে। আর আমাদের পরিবেশের গাছ ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায়, বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায়, এবং আমাদের খাদ্য সরবরাহের একটি বিশাল অংশ হারিয়ে যাওয়াতে, পৃথিবী বাসযোগ্যহীন হয়ে পড়বে।

এটি ঠিক করার একমাত্র উপায় হচ্ছে, আমাদের আবহাওয়াকে এমন ভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাতে আমরা আমাদের আবহাওয়াকে ইচ্ছামত নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। অথবা, হ্যাঁ, আমরা পরিবেশ দূষণ বন্দ করে দিতে পারি এবং এতে এই সমস্যাটি একাই সমাধান হয়ে যাবে। কারণ, শুরুতে, আমরা এভাবেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম।

হয়ত, আমরা বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে দূষণের জন্য জরিমানা নিতে পারব। তবে, আমরা এই গল্পটি কি হত যদি এর অন্য একটি পর্বের জন্য রেখে দিলাম।