Black Hole। এরা বৃহৎ এবং অত্যন্ত ঘন। তারা তাদের কাছে যায় এমন যেকোনো কিছু এবং সবকিছুকেই একদম ধ্বংস করে ফেলে যেগুলো। আমরা অবশ্য ব্ল্যাক হোল দেখতে পাই না কিন্তু আমরা জানি যে তাদের এমন ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা আছে যে তারা সবকিছুকেই তাদের অস্ত্বিত্ব থেকে মুছে ফেলতে পারে।

আজকের ‘কি হত যদি’ সিরিজের দ্বিতীয় পর্বে আপনাকে স্বাগতম এবং আজকে আমরা আপনাদেরকে বলব যে,

কি হত যদি একটি ব্ল্যাক হোল পুরো মহাবিশ্বকে একদম মুছে ফেলত??

Black Hole Draining Energy
Black Hole Draining Energy

আমাদের আলোচনার যে অংশে একটি ব্ল্যাক হোল পুরো মহাবিশ্বকে মুছে ফেলে সেখানে যাওয়ার আগে একটি বিষয় পরিষ্কার করে রাখি। এই মহাবিশ্ব একটি বিশাল সুপার কম্পিউটারের মত যেটা সবসময় ‘ইনফর্মেশন’ প্রক্রিয়াকরণ করছে। এই ‘ইনফর্মেশন’ ছাড়া, মহাবিশ্বের কোন অস্ত্বিত্ব থাকতে পারে না। কিন্তু,

এই ‘ইনফর্মেশন’ কি??

পদার্থবিজ্ঞান অনুযায়ী, ‘ইনফর্মেশন’ একটি অণুর বিশেষ অবস্থার বৈশিষ্ট। হ্যা, আমি বুঝতে পারছি যে এটি আপনাদের কাছে একটু বিভ্রান্তিকর। হুম……। তাহলে চলুন, আপনাদেরকে এই বিষয়টিকে একটি সহজ দিক থেকে বোঝানোর চেষ্টা করি।

একটি কার্বন অণুর কথা চিন্তা করুন। এদের কয়েকটিকে একত্রিত করলে আমরা শক্ত হিরা তৈরী করতে পারব। কিন্তু, আপনি যদি এই অণুগুলোর বিন্যাস পরিবর্তন করে দেন, তাহলে তা পরিবর্তিত হতে একটি গ্রাফাইটে রুপান্তরিত হবে।

এইক্ষেত্রে, এই দুই পদার্থের মূল গঠন উপকরণ একই। কিন্তু এদের এই পার্থক্যের কারণ হল ‘ইনফর্মেশন’।

কোয়ান্টাম মেকানিক্সের দিক থেকে, ‘ইনফর্মেশন’ এক প্রকার শক্তির মত। এজন্য, এটি শূণ্যের মধ্যে হারিয়ে যেতে পারে না। তাহলে এই মহাবিশ্বে কিভাবে একটি ব্ল্যাক হোল এই অসম্ভব কাজটি সম্ভব করতে পারে??

এটিই হল ‘The Black Hole Information Paradox’

ব্ল্যাক হোল বিশাল একটি মহাজাগতিক ট্র্যাশ কমপ্যাক্টর এর মত আচরণ করে। তারা Event Horizon কে পার করে ফেলা সবকিছুকেই একদম পিষে একদম আণুবিক্ষণিক করে ফেলে। অর্থাৎ, তারা একটি পদার্থের অণুর মত ছোট হয়ে যায়।

তাহলে, ব্ল্যাক হোল যে সকল ক্ষুদ্রাকার কণা খেয়ে ফেলে, তাদের ‘ইনফর্মেশন’ এর কি হয়?? কারণ, ‘ইনফর্মেশন’ কখনোই ধ্বংস করে ফেলা সম্ভব নয়। তাহলে এটিকে অবশ্যই এই ব্ল্যাক হোলের মধ্যেই কোথাও সংরক্ষিত অবস্থায় থাকতে হবে তাইনা??

আমরা ব্ল্যাক হোল বলতে যা বুঝি তা থেকে আমরা অনুমান করে নিই যে ব্ল্যাক হোলের মধ্যে যা কিছুই হারিয়ে যায়, সেগুলো ব্ল্যাক হোলের মধ্যেই থাকে। ঠিক যে সময়ে কোন কিছু Event Horizon কে অতিক্রম করে ফেলে, ঠিক তখনই সেই জিনিসটি ব্ল্যাক হোলের ঘনত্বের মধ্যে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।

Huge Black Hole
Huge Black Hole

এটি এতটাই ছোট হয়ে যায় যে, এর মধ্যে যে ‘ইনফর্মেশন’ চলে যায়, তা আর কখনোই ফিরে আনা সম্ভব হয় না।

তবে হ্যা, Stephen Hawking তার Hawking Radiation এর তত্ব উপস্থাপিত করার আগে আমাদের ধারণা এটা ছিল।

Hawking বুঝতে পারলেন যে, ব্ল্যাক হোল স্থির কিছু না। কারণ, তারা তাদের মধ্যে থাকা বিভিন্ন বস্তুর ভর এবং শক্তি মহাবিশ্বে আবার বের করে দেয়। তবে ব্ল্যাক হোল একটি একটি করে কণা মহাবিশ্বে ছেড়ে দেয় যতক্ষণ না সেই বস্তুটি নিঃশেষ হয়ে যায়।

তাহলে কি তার মানে এটাই যে ব্ল্যাক হোলের মধ্যে সংরক্ষিত থাকা ‘ইনফর্মেশন’ কোনভাবে ব্ল্যাক হোল থেকে নির্গত তেজষ্ক্রিয়তার সাথে বেরিয়ে যায়?? ব্যাপারটি এরকমও কিছুই না।

আমাদের আগের ধারণার মত ব্ল্যাক হোল কোন ‘ইনফর্মেশন’ সংরক্ষণ করে রাখে না। এটি এই ‘ইনফর্মেশন’ অন্যান্য ‘ইনফর্মেশন’ এর সাথে মিশিয়ে দেয়। এজন্য সকল হারিয়ে যাওয়া ‘ইনফর্মেশন’ ফিরিয়ে নিয়ে আসা অসম্ভব হয়ে দাড়ায়।

এই ‘ইনফর্মেশন’ সারা জীবনের জন্য হারিয়ে যায়।

যদি ‘ইনফর্মেশন’ হারিয়ে যেতে পারে, তাহলে ব্ল্যাক হোল তো এই মহাবিশ্ব সারা জীবনের জন্য মুছে ফেলে দিতেই পারে তাইনা??

আরেকটি সম্ভাবনা এমন যে ব্ল্যাক হোল কোন ‘ইনফর্মেশন’ মুছেই ফেলে না। এটা হয়ত একটি Baby Universe এ সকল ‘ইনফর্মেশন’ জমা রাখে। এটি একটি ছোট স্ব-নির্মিত মহাবিশ্ব যেটি হয়ত আমাদের মহাবিশ্বের একটি শাখা মহাবিশ্ব। তথ্যটি তো তাহলে হারিয়ে যাচ্ছে না। কিন্তু, তবুও আমরা এর সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারব না।

Huge Black Hole Image
Huge Black Hole Image

আরেকটি সম্ভাবনা হচ্ছে যে ব্ল্যাক হোল এই ‘ইনফর্মেশন’ কে নিজের মত করে পরিবর্তিত করে নিতে পারে। ‘Holographic Principal’ এর কারণেই আমরা এটিকে আমাদের সম্ভাবনার লিস্ট এ নিয়েছি। যদি আপনি একটি ব্ল্যাক হোলের মধ্যে আটকে যেতেন, তাহলে আপনিও একটি 3D জায়গা অনুভব করতেন।

কিন্তু, বাইরে থেকে আমাদের কাছে মনে হত যে আপনি একটি সমান পৃষ্ঠতল এর উপরে চ্যাপ্টা হয়ে রয়েছেন। ঠিক একটি Hologram এর মত। এর মানে হত যে Information Paradox স্থির প্রতিজ্ঞ হয়ে গেছে এবং আমাদের পদার্থের নিয়মকে আবারও নতুন করে লেখার প্রয়োজন পড়ত না।

কিন্তু, আমরা বাস্তবতা নিয়ে  যা বুঝি তা সম্পর্কে আবারও চিন্তা করতে হত। এটা হতেই পারে যে এই মহাবিশ্ব একটি 3D ছবি যেটিকে একটি 2D পৃষ্ঠের উপর থেকে প্রতিফলিত করা হচ্ছে। এবং, এভাবে, আপনি হয়ত একটি ব্ল্যাক হোলের পৃষ্ঠে থাকা একটি হলোগ্রামের প্রতিফলন। আর সবচেয়ে ভাল কথাটি হল, ব্ল্যাক হোল কিছুতেই এই মহাবিশ্বকে মুছে ফেলতে পারবে না। দাড়ান দাড়ান, তার মানে কি এই যে আমরা একটি হলোগ্রামের মধ্যে বাস করছি?? এই প্রশ্নটি ‘কি হত যদি’ এর আরেকটি পর্বের জন্য থাকল।