অনলাইন ডেস্ক: প্রযুক্তির দুনিয়ায় অনেক বড় একটা পরিবর্তন দান করেছে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। আজ আমরা যত বহনযোগ্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস দেখতে পাই তার সবগুলোতেই পাবেন লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। এই ব্যাটারি যদি না থাকতো, তাহলে আপনি এখন যে ফোন থেকে এই লেখাটা পড়ছে তা হয়ত এত সহজেই পড়তে পারতেন না।

শুধু আপনার ফোনেই নয়, এই ব্যাটারি ব্যবহার হতে যাচ্ছে আপনার ব্যাক্তিগত গাড়িতেও। লিথিয়াম ব্যাটারির বর্তমান বানিজ্যিক চাহিদা ও বাজার এবং এই ব্যাটারির স্রষ্টাদের কথা জানবো আজকের এই লেখা থেকে ( তাদের দেখতে আমাদের ইউটিয়ুব চ্যানেল ঘুরে আসতে পারেন)

চলুন শুরু করি

আমাদের বহনযোগ্য যত ধরনের ডিভাইস আছে, যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব, স্মার্ট ওয়াচ, আরো যত সব স্মার্ট ডিভাইস আছে তার সবকিছুতেই পাবেন এই ব্যাটারি। এই ব্যাটারি ওজনে হালকা ও গড়নে পাতলা হওয়াতে লিথিয়াম আয়নের এই ব্যাটারির ব্যবহার বেড়ে গেছে প্রচুর পরিমাণে।

বাজার

একটি অর্থনৈতিক সমীক্ষা থেকে দেখতে পাওয়া তথ্যমতে, 2018 সাথে এই ব্যাটারির বাজার দাড়িয়েছিল 33 বিলিয়ন ডলার। এই ব্যাটারি যেহেতু পরিবেশ বান্ধব। সে কারণেই এই ব্যাটারিকে জ্বালানি তেলের বিকল্প হিসাবে চিন্তা করতে শুরু করেছে সবাই। তাই এটা 2025 সালে এর মোট বাজার দর আসবে 75 বিলিয়ন ডলার। যার শতকরা হিসাব করলে সংখ্যা আসে 121 %।

Lithium-ion battery
Lithium-ion battery

উৎপাদন ও তার ইতিহাস সাথে এম স্ট্যানলি হুইটিংগাম

m stanley whittingham
m stanley whittingham

লিথিয়ামের অনেক শক্তি; আর সেটাকে কিভাবে ব্যবহার যোগ্য হিসাবে তৈরী করে মানুষের উপকারে কাজে লাগানো যায় তার চেষ্টা শুরু হয় আজ থেকে 45 বা 50 বছর আগে থেকে । 1970 সালে বিশ্বব্যাপী তেলের সংকট সৃষ্টি হলে বিজ্ঞানীরা তেলের বিকল্প এর জন্য চিন্তা ভাবনা শুরু করেন।

সেই চিন্তা থেকেই বিজ্ঞানি এম স্ট্যানলি হুইটিংগাম উদ্ভবন করেন লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। এই ব্যাটারিতে দুইটা অংশ আছে যার একটা হল অ্যানড আর অন্যটা হল ক্যাথড। এম স্ট্যানলি হুইটিংগাম ব্যাটারির অ্যানড তৈরীতে লিথিয়ান আয়ন ব্যবহার করেন।

সাংবাদিকদের এক সাক্ষাতে নোবেল বিজয়ী এম স্ট্যানলি হুইটিংগাম বলেন আমরা এটাকে আরো উন্নত করার চেষ্টা করছি। এটা প্রথমে যেমন ছিল, তার থেকে বর্তমান এটা অনেক বেশি উন্নত আর এর শক্তিও বেড়েছে অনেক। এটাকে ইন্ড্রাস্টিয়াল দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে হলে এর পিছে আরো অনেক কাজ করতে হবে।

এটার ব্যাপারে আমাদের চিন্তা ভাবনা হচ্ছে এর শক্তি দুইগুন করা আর দাম কমিয়ে নিয়ে আশা। এটা করতে পারলেই কেবল বৈদুতিক গাড়ি সবার কাছে পৌছে দেয়া সম্ভব। আর তাহলেই পরিবেশকে সুন্দর রাখা সম্ভব হবে।

এম স্ট্যানলি হুইটিংগামের কাজের প্রায় এক দশক পরে এটা নিয়ে কাজ শুরু করেন নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী জন বি গুড এনাফ। তিনি লিথিয়াম আয়নের শক্তিকে প্রথম সময়ের চাইতে আরো অনেক শক্তিশালী করে তুলেন। তিনি কোবার অক্সাইডকে লিথিয়ামের সাথে বিক্রিয়া করে চারগুন শক্তি উৎপাদন করিয়ে দেখাতেও সক্ষম হয়েছেন।

জন বি গুড এনাফ বলেন

john b goodenough
john b goodenough

আমরা যারা বিজ্ঞানী তাদের কাজ হল নতুন কিছু উদ্ভাবন করা, কিন্তু সেটার ব্যবহার কেমন হবে তা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর উপর। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি যেমন মানুষের উপকারে ব্যবহার হচ্ছে তেমনই এটা মানুষকে ক্ষতি করতেও ব্যবহার করা সম্ভব বা ব্যবহার করা হতে পারে। তাই বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে।

আকিরা ইয়োশিনো

akira yoshino
akira yoshino

1985 সালে ব্যাটারিকে বানিজ্যিক ভাবে বাজারে এনেছেন নোবেল বিজয়ী আকিরা ইয়োশিনো। স্ট্যানলির উদ্ভাবিত ব্যাটারিতে লিথিয়াম সক্রিয় থাকায় বিষ্ফরনের ঝুকি ছিল অনেক। লিথিয়ামের পরিবর্তে অ্যানোডে পেট্রোলিয়াম কেক ব্যবহার করেন আকিরা। আর বিশুদ্ধ লিথিয়াম এর পরিবর্তে ঐ ব্যাটারিতে ব্যবহার করে লিথিয়াম আয়ন। আকিরা ইয়োশিনো বলেন, “ আমি মনে করি গবেষকদের খোলা মন, উদার মানষিকতা, নমনীয় থাকাটা বেশ জরুরি। এর সাথে গবেষকদের মনে প্রচুর জেদ থাকলেই ভালো, প্রচুর অধ্যাবসায় করতে হবে আর হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। তাহলেই তো পৃথিবীকে ভালো কিছু উপহার দেয়া সম্ভব।

নোবেল

আলোচনা করে আসা এই তিন বিজ্ঞানীকে এবার নোবেল কমিটি রসায়নে তাদেরকে নোবেলের জন্য মনোনীত করেছেন। নোবেল কমিটির মতে এই তিন বিজ্ঞানী পৃথিবীতে রিচার্জ এবল পৃথিবী উপহার দিয়েছেন যা মানুষের প্রতিদিনের জীবন কে সহজ করে তুলেছে। জীবাশ্ম জ্বালানিকে মুক্তি দিয়ে নতুন জ্বালানির পথ উন্মোচন করেছেন।

আরো পড়ুন

১) রোহিঙ্গারা আপনার সিম ব্যাবহার করছে না তো??

২) ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার কিভাবে কাজ করে?? কিভাবে সে তার ইউজারকে চিনতে পারে??

ছবি: freepik, insideclimatenews.org, theengineer.co.uk, epo.org