চলুন শুরু করি

অনলাইন ডেস্ক: সবাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি Bangla Projukti এর পক্ষ থেকে। আজ আমরা জানবো আমার বা আপনার নামে কতগুলো সিম আছে বা চলছে, সেটা বের করার পদ্ধতি। তার আগে কিছু কথা বলে নেই।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মোবাইল সিম বিক্রয় করা ও কেনা দুইটাই সহজ কাজ। এতোটাই সহজ কাজ যে আপনি চাইলে আপনার বায়োমেট্রিক সাইন না দিয়েই পেয়ে যেতে পারেন একটা সিম (আশা করি সেগুলো আর পাওয়া যাবে না) সেটা কিভাবে? তার উত্তর অসাধু ব্যাবসায়ীরা দিতে পারবে। অন্যান্য মানুষের মত আপনি এটা বলতেই পারেন যে এগুলো এখনকার দিনে আর হয় না।

Mobile Sim
Mobile Sim

হয় না বললেই কি হয়?? এই প্রশ্নের উত্তরে চলুন আপনাকে কিছু উদাহারন দেই । মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি না। তবুও তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। তারা সিম পেল কিভাবে?

এই বিষয়টির খারাপ দিক হল, তারা যাদের নামের সিম ব্যবহার করছে, কোন বিপদ হলে যার নামের সিম তাকে বিপদে পড়তে হবে।

আমার নিজের দেখা বাস্তব একটি ঘটনার উদাহারন দেই। পাবনার কাশিনাথপুরে লিটন নামের এক ব্যানার ব্যবসায়ী সাব্বির নামের এক সুতা ব্যবসায়ীর সাথে খুব ভালো সম্পর্ক (স্থান সত্য নামটা ছদ্য নাম ব্যবহার করা হলো নিরাপত্তার জন্য)। তারা দুইজন দুইজন কে অনেক বিশ্বাস করে। অনেক ভালো বন্ধুও বটে। একদিন লিটন সাহেবের একটি ইমারজেন্সি সিম প্রয়োজন পরলো। বিষয়টা তিনি বুঝিয়ে সাব্বির সাহেবকে বললেন এবং সাব্বির সাহেব তার নিজের নামে লিটন সাহবেকে একটি সিম কিনে দিলেন।

অনেক বছর পরে হঠাৎ করে একদিন র‍্যাব এসে কয়েক লাখ টাকা ট্যাক্স ফাকির অপরাধে সাব্বির ধরে নিয়ে যায়। পরে জানা গেল যে তার নামে ব্যবহৃত সিম দিয়ে অনেক অনেক টাকার বিকাশ লেনদেন হয়েছে। আর হ্যাঁ, আগে কিন্তু বিকাশ দিয়ে আনলিমিটেড লেনদেন করা যেত। এর ফলে একটি নিদিষ্ট ট্যাক্স এসেছে বা এতো টাকা লেনদেন টাকার উৎস কি এসব ব্যাপাররে কারনে তাকে ধরে নিয়ে গেছে র‌্যাব বাহিনি।

mobile sim
mobile sim

পরে লিটন সাহেব নিজেকে জেল ঢুকিয়ে বন্ধুকে বের করে এবং আগে পরে অনেক ঘটনা ঘটে যা আমাদের এই এলাকায় একটি আলোচিত ঘটনা।

এই বন্ধুতো সেধেই তাকে সিমটা দিল। অন্য ক্ষেত্রে যেটা হত বা হয় সেটা হলো বায়মেট্রিক ছাপ নেয়ার সময় “ ওহ ভাইয়া এখন নেটওয়ার্ক খুবই ডিসটার্ব করছে আবার হাতের আঙ্গুল বসান – ঠিক ঠাক ছাপ নিচ্ছে না ” এই বলে আপনাকে দিয়ে একাধিক সিম রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে নিত। কারন বেশি বেশি সিম বিক্রয় করলে বেশি বেশি লাভ করা যেত । এখন দুইটা সিম কিনতে চাইলে খুব কম হলেও ৩ ঘন্টা বা আরো বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে – তার মানে এখন চাইলে “ ওহ ভাইয়া এখন নেটওয়ার্ক খুবই ডিসটার্ব করছে আবার হাতের আঙ্গুল বসান – ঠিক ঠাক ছাপ নিচ্ছে না ” বলে এই অপরাধ করতে পারছে না।

প্রযুক্তির দিক দিয়ে আমি নিজেকে সচেতন ভাবতাম আমি নিজেও এমন ঘটনার ভুক্তভুগি ।

কিভাবে জানবেন আপনার নামে কয়টি সিম ?

যেহেতু আপনার এন আই ডি দিয়ে আপনাকে সিম রেজিষ্ট্রেশন করতে হয়েছে । তাই আপনার এন আই ডি দিয়ে যেকোন উপায়ে রেজিষ্ট্রেশন করা সিমটি কি রোহিঙ্গা বা কোন অসৎলোক অথবা যেকেউ ব্যাবহার করছে ? বা আপনার নামে কতগুলো সিম ? তা জানতে আপনাকে মোবাইলের ডায়াল অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে *16001# তুলে ডায়াল করতে হবে ।

এর পর পরেই একটা লেখার বক্স আসেব এবং সেখানে এন আই ডির শেষ চার সংখ্যাটা লিখতে হবে । আমারটা দিয়েন না আপনার এন আই ডির শেষ চার সংখ্যা দিয়েন । একটু পরেই একটি ফিরতি ম্যাসেজ আসেব

সেই ম্যাসেজে আপনার নামে কোন কম্পানির কত গুলো সিম রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে সেটার একটা লিস্ট আকারে আসবে । তার পরে সেই নাম্বার গুলো যদি আপনার কাছে থাকে তো আল্লহাম্মদুল্লিল্লাহ বলে বসে পরুন । আর যদি না থাকে তাহলে বুঝতে পারবেন আপনি কোন না কোন ভাবে বোকা হয়েছেন । কোন প্রকার অকারেন্স ঘটার আগে পুলিশে ডাইরি করেন আগে, তার পর সেই সিম গুলো কম্পানি কে জানিয়ে তুলি ফেলুন । আগে পুলিশে ডাইরি কেন করবেন ? কারন ইতি মোধ্য যদি কোন বাজে ঘটনা আপনার সিম দিয়ে ঘটে থাকে তার দায় ভার কিন্তু আপনারই। তার আগে যে কাজটি করবেন সেটা হলো এতো সুন্দর ভালো একটা লেখা শেয়ার করে সব ভালো মানুষদের কাছে পৌছেদিন । নিজে বাঁচুন – অন্যকে বাঁচান ।

আরও পড়ুনঃ

১) হুয়াওয়ে এর নতুন ৮০,০০০ ও ১,১২,০০০ টাকার Price Range এর Mate 30

২) যাবেন নাকি মহাকাশে?

Writter

আতিকুর রহমান – বাংলা প্রযুক্তি অনলাইন ডেস্ক।