আমরা বন্ধুরা সবসময়ই এক কথা বলতাম। এক আঙ্গুলের ছোঁয়ায় কার মোবাইল কত তাড়াতাড়ি আনলক হয়। এখন এই খেলাটা আমাদের মধ্যে আরো দূরে চলে গেছে কারণ এখন আমাদের মোবাইলে আছে ফেস আনলক বা Facial Recognition.

শুধুমাত্র আপনার মোবাইলের দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকুন এবং আপনার মোবাইল খুলে যাবে ( নাহ্ থাক। বড় বড় চোখ করে তাকানোর পর না খুললে আবার আমাকে গালি দিবেন)।

যতই হোক, এই ব্যাপারটা কেমন একটু উত্তেজনাপূর্ণ তাইনা?? আপনার মোবাইলের দিকে তাকানোর সাথে সাথে তা খুলে যাবে। যেহেতু আইফোনের মতো ফ্ল্যাগশিপ মোবাইলেই প্রথম এই বিষয়টি ফুটে উঠেছিল, তাই অন্যান্য মোবাইল নির্মাতা কোম্পানিগুলো এই বিষয়টি আয়ত্ব করেছে।

কিভাবে কাজ করে

যারা এই বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানেন না বা যারা নতুন, তাদেরকে বলছি যে এটি সেই প্রযুক্তি যেটি তার ব্যবহারকারীর মুখের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় চিহ্নিত করে তার মোবাইল আনলক করে দেয়। এই পদ্ধতিটি আপনার মুখের নড়াচড়া অথবা মুখের বিভিন্ন বিষয় চিহ্নিত করে আপনাকে চিনতে পারে।

Face Unlock এর কৌশল

Facial Recognition এর জগতে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক প্রযুক্তিগত সাফল্য দেখা গেছে। সামনের ক্যামেরা দিয়ে আনলক করার টেকনিক থেকে এখন এই বিষয়টি অনেক দূর পৌছে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে Apple এর Face ID এবং আরো অনেক।

Face ID of Apple

Face ID of Apple
Face ID of Apple

অ্যাপলের ফেস আইডি আপনার মুখ আলোকিত করতে ইনফ্রারেড লাইট ব্যবহার করে। আলো দেখা যাবে এমন আলোর সীমার বাইরে থাকে এবং আশেপাশে আলো থাকা সত্বেও কোন ঝামেলা ছাড়াই কাজ করে। তারপর একটি Secondary 30000-পয়েন্ট ইনফ্রারেড লেজার ম্যাট্রিক্স এটি প্রতিফলিত করে।

যখন মুখ নড়াচড়া করে, তখন একটি ইনফ্রারেড ক্যামেরা ম্যাট্রিক্স পয়েন্টের প্রতিচ্ছবিগুলির পরিবর্তনগুলি সনাক্ত করতে পারে। এভাবেই আপনার মুখের সঠিক তথ্য মোবাইলটি সনাক্ত করতে পারে।

IR face Unlock

IR Face Unlock
IR Face Unlock

এই প্রযুক্তিটি ডিভাইসটি আনলক করার জন্য একটি ইনফ্রারেড ক্যামেরা ব্যবহার করে। এই প্রক্রিয়াটি আপনারা 3D স্ক্যানিং এর মত বলতে পারেন। এর আরেকটি সুবিধা হল এটি ইনফ্রারেড ক্যামেরা এবং সেন্সরগুলির কারণে অন্ধকারেও অনেক ভাল কাজ করে। মুখের স্ক্যান করে এবং ফোনটি আনলক করতে সামনের ক্যামেরাটি ইনফ্রারেড টেকের সাহায্যে ব্যবহার করা হয়।

3D face unlock.

3D Face Unlock
3D Face Unlock

3 ডি ফেস আনলকে, সেলফি ক্যামেরা ব্যবহার করে মুখের প্রায় 30,000 আলাদা আলাদা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর মুখের বিভিন্ন স্থানের গভীরতার একটি মানচিত্র বা ছবি তৈরি করা হয়। তারপরে চিপসেটে থাকা এআই ইঞ্জিন মুখের গভীরতার চিত্রকে একটি সংখ্যার কোডে রূপান্তরিত করে। এরপর যখন কেউ মোবাইল আনলক করার জন্য সেলফি ক্যামেরার সামনে মুখ দেয়, তখন সেটি মোবাইলে থাকা ডেটার সাথে ক্যামেরা থেকে পাওয়া ডেটা মিলিয়ে দেখে এবং তা মিলে গেলে মোবাইলটি আনলক করে দেয়।

এটা ভাল নাকি খারাপ??

যখন Apple তাদের iPhone X এ Face ID নিয়ে এল, তখনই মোবাইল মার্কেটে একটি নতুন মোড় তৈরী হয়ে গেল। যদিও তারা এই প্রযুক্তিটি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করে নি, তবুও তারা এই প্রযুক্তিটি ব্যবহারের পর থেকেই এটি এত জনপ্রিয়তা পেল।

এটি Apple এর একটি প্রোডাক্ট। আর এই কোম্পানির নাম অ্যাপেল দেখেই তারা এর দাম $999 চাইলেও করতে পারে। কিন্তু অন্যান্য নির্মাতারা তা করতে পারবে না। আপনি Apple কে যে মূল্য দিবেন তা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং নতুনত্বের জন্য; আর আরেকটি বিষয় এটাও যে আপনি iPhone ব্যবহারকারীদের মধ্যে একজন হয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, যারা বাজারের এমন একটি পর্যায়ে আছেন যারা কম দামে ভাল মোবাইল দিয়ে থাকেন, তারাও এই প্রযুক্তি তাদের মোবাইলে দিতে পারছেন না কারণ এতে মোবাইলের দাম বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু অন্য দিক থেকে, এটি বাজারের সবচেয়ে চাহিদাপূর্ণ একটি প্রযুক্তি।

খরচ কমিয়ে আনার জন্য তারা প্রয়োজনীয় জটিলতাগুলি কম রাখার চেষ্টা করে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীরা কিছু হুমকির মধ্যে নিপতিত হচ্ছেন কারণ Facial Recognition আপনার ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশের পথ।

কোনটি সবচেয়ে ভাল??

এটি আপনার কাছে হাইস্যখর মনে হতে পারে, তবে আসল সত্য হল এটি আমাদের পুরানো দিনের পাসওয়ার্ডের মতো নিরাপদ নয়। সাম্প্রতিক কিছু এক্সপেরিমেন্ট এ দেখা গেছে যে অ্যাপেল এর Face ID কে কিছু কায়দার দ্বারা বোকা বানানো সম্ভব। আর এটিই প্রমাণ করে দেয় যে এই প্রযুক্তির সাফল্যের পথ এখনো অনেক দূর।

এই Facial Recognition প্রযুক্তিগুলি আমাদের সময়ে যা ছিল তা থেকে একটি বড় পদক্ষেপ আগে রয়েছে। তবে এরাও তাদের সীমাবদ্ধতা নিয়েই বাজারে এসেছে। সুতরাং, আপনার পাসওয়ার্ডটি হাতের কাছে রাখাই ভাল।

ভিডিওটি দেখুন