ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো ২০২২

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো সেটা এখনকার যুগের গুরুত্বপূর্ণ এবং কমন প্রশ্ন। কিন্তু কোন ধরণের ল্যাপটপ প্রয়োজন সেটা জানার আগে জানা দরকার কোন ধরণের ফ্রিল্যান্সার হবেন অথবা কোন ধরণের ফ্রিল্যান্সিং কাজে অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। ফ্রিল্যান্সিং কয়েক ধরণের হয়ে থাকে।

যে ব্যক্তি ডাটা এন্ট্রি, এসইও এবং কন্টেট রাইটিং করতে ইচ্ছুক তার জন্য যেকোন সাধারণ ল্যাপটপই যথেষ্ট। কারণ এ কাজ গুলো খুব নরমাল ডিভাইসেও সম্ভব এরজন্য অসাধারণ কিছুর প্রয়োজন হয়না সাধারণত।  আর যে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করতে ইচ্ছুক তাকে গ্রাফিক্স কার্ড এর ল্যাপটপে কাজ করতে হবে। অর্থাৎ তারজন্য গ্রাফিক্স ডিজাইনের কার্ড সহ ল্যাপটপ প্রয়োজন।

আর তাছাড়াও এনিমেশন ভিডিও বা গ্রাফিক এর ক্ষেত্রে হাই কনফিগারেশন এর ল্যাপটপ প্রয়োজন। সবই প্রয়োজন ভিত্তিক। অতএব, ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজের ধরণ অনুযায়ী ল্যাপটপ প্রয়োজন।

আর নতুন ল্যাপটপ কেনার পর করণীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ রয়েছে। সেগুলো অবশ্যই করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো

২০ হাজার টাকায় ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো?

ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য ২০ হাজার  টাকায় অনেক ধরণের ল্যাপটপ পাওয়া যায় সে সব এর মধ্যে  Walton Prelude R1 অনেক ভালো মানের ল্যাপটপ।  এটি এন্ট্রি, এসইও এবং কন্টেট রাইটিং এর জন্য অনেক ভালো মানের ল্যাপটপ হিসেবে বিবেচিত। কন্টেট রাইটিং বা ডাটা এন্ট্রির জন্য এরচেয়ে বেশি প্রাইসের ল্যাপটপের প্রয়োজন নাই। 

এটির  ওজন ১.৩৩ কেজি হওয়াতে বহন করা সুবিধাজনক। ১টিবি হার্ডডিস্কের কারণে ফাইল স্টোর করার সুবিধা ও বিদ্যমান।

Walton Prelude R1 এই ল্যাপটপের স্পেসিফিকেশন:-

প্রাইস১৯,৯৯০ টাকা
স্ক্রিন১৪.১ ইঞ্চি
র‍্যাম০৪ জিবি
প্রসেসরইন্টেল ডুয়াল কোর
হার্ড ডিস্ক১টিবি

Walton Prelude R1 এই ল্যাপটপের সুবিধাসমূহ:-

এই ল্যাপটপ এর বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। অল্প প্রাইসের হলেও এর সুবিধার দিক দিয়ে উচ্চমানের।  এটি দিয়ে কন্টেট রাইটিং এবং ডাটা এন্ট্রির কাজ ছাড়াও অনলাইন মিটিং বা ক্লাসের মত সাধারণ ব্যবহারেও ভালো ভূমিকা রাখে।  ল্যাপটপের সামনে ওয়েবক্যাম থাকাতে অনলাইন মিটিং এবং ক্লাস সহজেই সম্ভবপর।

Walton Prelude R1 এই ল্যাপটপের অসুবিধাসমূহ:-

আর অসুবিধার মধ্যে যেটি উল্লেখ করার মত তা হলো : মাত্র ২০ হাজার টাকায় কেনা এই ল্যাপটপ  মূল্য অনুসারেই সার্ভিস দিয়ে থাকে। এরচেয়ে উন্নত মানের সার্ভিস পেতে হলে অব্যশই উন্নতমানের  ল্যাপটপ প্রয়োজন। কেননা মোশন গ্রাফিক বা এনিমেশনের জন্য ল্যাপটপ বাছাই করতে হলে অবশ্যই উচ্চমানের ল্যাপটপ প্রয়োজন। সুতরাং যেকোন ল্যাপটপে সেরকমই সার্ভিস পাওয়া যাবে যেরকম সার্ভিস দিতে ল্যাপটপ টা তৈরি অথবা ওই পরিমাণ মূল্য নির্ভর করবে।

আরো পড়ুনঃ অরিজিনাল এবং ফেইক হেডফোন চেনার উপায়

৪০ হাজার টাকায় ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো?

Lenovo Ideapad 330 ল্যাপটপটি অতি সাশ্রয়ী মূল্যের, মজবুত নির্মাণ, ভালোমানের কিবোর্ড এবং মজবুত চ্যাসিস বৈশিষ্টে বৈশিষ্ট্যময়।  আইডিয়াপ্যাডটি কিছু লোকের জন্য অসাধারণ হতে পারে। যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনে আগ্রহী অথবা গ্রাফিক্স ডিজাইন করে টাকা আয় করতে চায় তাদের জন্য এই ল্যাপটপ চমৎকার একটি ল্যাপটপ।

Lenovo Ideapad 330 এই ল্যাপটপের স্পেসিফিকেশন:-

প্রাইস৪০,২০০ টাকা
স্ক্রিন১৫.৬ ইঞ্চি
র‍্যাম৪ জিবি ডিডি-আর ফোর
প্রসেসরAMD A9-9425 ডুয়াল কোর
হার্ড ডিস্ক১টিবি

Lenovo Ideapad 330 এই ল্যাপটপের সুবিধাসমূহ:-

এটি তৈরির সময়েই গ্রাফিক্স কার্ড দ্বারা নির্মাণ করা হয়। আর তাই গ্রাফিক্স ডিজাইনের বা গ্রাফিক্স এর কাজের ক্ষেত্রে একটি অসাধারণ ল্যাপটপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ল্যাপটপটির উপাদান ডিসপ্লের মধ্যে চমৎকার ভিজ্যুয়াল অবজেক্ট তৈরি করে এবং বাস্তবসম্মত ভিজ্যুয়াল রূপ প্রদান করে।  গ্রাফিক্স কার্ড ভিডিও গ্যামার এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার উভয়ের নিকটেই অতি মূল্যবান।

Lenovo Ideapad 330 এই ল্যাপটপের অসুবিধাসমূহ:-

ভালো দিকের পাশাপাশি খারাপ তথা অসুবিধা আলোচনা করতে গেলে বলা যায় যে, কম – রেজোলিউশন ডিসপ্লের জন্য এমন একটি সস্তা ল্যাপটপের সমালোচনা করা আসলেই কঠিনতর ব্যাপার।  আঁটসাঁট বাজেটে থেকে মৌলিক অনলাইন কাজের জন্য এটি একটি কঠিনতম পছন্দ। এতে শক্তিশালী চ্যাসিস এবং উচ্চমানের কিবোর্ড  থাকলেও স্বল্প ব্যাটারি  নিস্তেজ ডিসপ্লে, সাবপার পারফরমেন্স এবং ছোট ডিসপ্লের কারণে সমালোচিত।

আরো পড়ুনঃ বাজেটের মধ্যে সেরা ৯ টি প্রিন্টার

৫০ হাজার টাকায় ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো?

মোশন গ্রাফিক এবং এনিমেশন তৈরির ক্ষেত্রে হাইকনফিগ ডেস্কটপের বিকল্প নাই। সে সব উচ্চমানের ল্যাপটপগুলোর একটি হলো Asus Vivobook S15 S510UF, এটি একটি অসাধারণ ল্যাপটপ।

ব্যবহৃত গ্রাফিক্স অ্যাডাপ্টারের নাম হলো NVIDIA GeForce MX130 যেটি ম্যাক্সওয়েল আর্কিটেকচারের উপর নির্ভর করে মোবাইলের জন্য মিড রেঞ্জের গ্রাফিক্স কার্ড। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে GeForce 940MX রাখা হয়। তাইওয়ানের একটি কোম্পানি।

এছাড়াও এতে রয়েছে ১০ অপারেটিং সিস্টেম বিচ্ছিন্ন num কী সহ চিকলেট কীবোর্ড 2W স্পিকার।   AsusTek Computer Incorporated,  মাদারবোর্ড, গ্রাফিক্স কার্ড, অপটিক্যাল ড্রাইভ, পিডিএ, কম্পিউটার মনিটর সার্ভার, নেটওয়ার্ক পণ্য, মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটার এর পণ্যাদি উৎপাদন করে।

তাছাড়াও অন্য নির্মাতাদের জন্য ও কোম্পানির নির্মাণ কাজের শেষ নাই।  Eee PC নোটবুক বুম প্রকাশিত হয়েছিলো ২০০৮ সালেই। নোটবুক সেক্টরে এটি বিশ্বব্যাপী ছিলো। যা এ কোম্পানিকে ৪র্থ বৃহত্তম ল্যাপটপ তৈরিকারী হিসেবে বিবেচিত করেছে। স্মার্টফোন সেক্টরে যদিও এটি শীর্ষ ৫ অবস্থানে নাই, তবে বাজারগুলোতে শেয়ার করা হয়েছে।

Asus Vivobook S15 S510UF এই ল্যাপটপের স্পেসিফিকেশন:-

প্রাইস৪৯,৫০০ টাকা
স্ক্রিন১৫.৬ ইঞ্চি
র‍্যাম৪ জিবি ডিডি-আর ফোর
প্রসেসরইন্টেল কোর i3 (2.20 GHz – 3.40 GHz)
হার্ড ডিস্ক১টিবি

Asus Vivobook S15 S510UF এই ল্যাপটপের সুবিধাসমূহ:-

এতে থাকা গ্রাফিক্স কার্ড দিয়ে গ্রাফিক্স সেক্টরে ফ্রিল্যান্সিং করা যাবে। যেহেতু গ্রাফিক্স এর ক্ষেত্রে দামি এবং ভালোমানের ল্যাপটপ প্রয়োজন সেক্ষেত্রে এই ল্যাপটপের জুড়ি নাই। মোশন গ্রাফিক এনিমেশনের ক্ষেত্রেও ভালো সার্ভিস দিয়ে থাকে।

Asus Vivobook S15 S510UF এই ল্যাপটপের অসুবিধাসমূহ:-

মূল্য অনুযায়ী আসুস এর খারাপ দিক বের করা কষ্টসাধ্য। এই মূল্যে এটিই শ্রেষ্ঠতম এর চেয়ে উন্নতমানের খোঁজ করতে হলে অবশ্যই চাহিদার পাশাপাশি মূল্য ও বাড়াতে হবে। তবেই সার্ভিসের ক্ষেত্রে আরো উন্নত আশা করা যাবে।

শেষ কথা

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো এইটা মূলত নির্ভর করবে আপনি কোন ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর এ কাজ করবেন তার উপর। উপরে যেই ল্যাপটপগুলোর বর্ণনা দিয়েছি সেইগুলা বাজেটে ভালো কিছু দিচ্ছে। তাই আপনি আপনার প্রয়োজন অনুসারে উপরের ৩ টি ল্যাপটপের যেকোনো একটি কিনতে পারেন।

ধন্যবাদ।

Leave a Comment